আবুল হোসেন খোকন

আবুল হোসেন খোকন

লেখকের রচনাসমগ্র



লালশাক এবং দগ্ধ রুবিনা

আমার কোনো তাড়া কিংবা দুঃখ নেই।
একটু আগেই গরম ভাত খেলাম
লালশাকের সঙ্গে শুকনো লংকা পুড়িয়ে।
মানুষ পুড়ছে তাতে কী!
তাই বলে লংকা পোড়াবো না!
আর মানুষতো অমন হামেশাই পুড়ছে
পূবে-পশ্চিমে, উত্তর কিংবা দক্ষিণে
কোথায় না পুড়ছে মানুষ?
তাই বলে পোড়া লংকা দিয়ে
ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেবো নাকি জনাব?
কিন্তু কেন যেন আজ শাকের লালটা
সাদা ভাতের সঙ্গে একটু বেশিই
মনে হচ্ছিলো,
রুবিনার সেই পুড়ে যাওয়া দগদগে
লাল রঙ ঠোঁটের মতো কী!
হলুদগন্ধা আমার স্ত্রীকে বলিনি সেকথা।
যদিও ফিরে এসে ঈষদুষ্ণ গরম জলে
স্নান সেরে সঙ্গমও করেছি কাল সারা রাত।

গতকাল রুবিনার পাশেই ছিলাম সেসময়
সহকর্মী, সহমর্মী যা-ই বলি না কেন
রুবিনার বুকের ভাঁজটা ছিলো কিন্তু বেশ
অনেকেই দেখতো চোরাচোখে, আমিও।
গল্পের ছলে অপলক সেই ভাঁজ বেয়ে নেমে
ঘুরছি তখন রুবিনার বুক থেকে আরও নিচে
আরও নিচেআরও নিচে
বিষাক্ত মধুপুর, পোড়া কার্বন-দুপুর
খাতা-পেন্সিল পোড়া দমবন্ধ অন্ধকার
কোন্ সে বন্দরে গিয়ে
থেমেছে এই আধিয়ার গিরিপথ রুবিনা?
কুয়াশা কেন এমন তোমার বন্দরে আজ?
কুয়াশাই যদি তবে কেন এতো গনগনে তেজ
ভাবতেই চোখ খুলে দেখি আগুনের ফুল
রুবিনার দাউদাউ জ্বলন্ত মাথা
লাল রঙ ঝুলে পড়া ঠোঁট-ভয়ঙ্কর চিৎকার
যদি জাপ্টে ধরে ফেলে কোনোমতে, সর্বনাশ

একলাই পালিয়েছি আমি রুবিনাকে ফেলে কাল
আমার কী এতো দায়-
কোথাকার কোন্ রুবিনা না কে,
বুকের একটু ভাঁজ দেখেছি বলে
তাকেও আগলাতে হবে নাকি আমার!
সবকিছু নিয়ে অপেক্ষায় ঘরে
প্রিয়তমা আমার সহধর্মিনী ময়দার দলা।
যদিও এখন মনে হয়, আমি চাইলেই
বেঁচে যেতো লাল রঙ ঠোঁট, গিরিধারী মেয়েটা।
পোড়া লংকায় লালশাক মেখে ভাত খেতে খেতে
মনে হলো, নিরাপদে ঘরে ফেরা আমি
কতোটুকু নিরাপদ?
বিনা অগ্নিতে দগ্ধ হতে হবে নাতো এরপর?
সাদা ভাতে কেন লালশাক
বেশি লাল মনে হলো আজ?

বিঃদ্রঃ মুক্তকলাম, লেখকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে, লেখা সম্পাদনা করে না। লেখার স্বত্ব ও দায়-দায়িত্ব শুধুমাত্র লেখকের।
রচনাটি অন্য ভাষায় পড়ুন

মন্তব্য - ০

কোন মন্তব্য নেই
মন্তব্যের জন্য লগইন করুন

সর্বশেষ প্রকাশিত