শ্রাবণের ছায়ামূর্তি

বর্ষা বিদায়ের শেষ ক্ষণে
শ্রাবণ রাতের শেষ প্রহরে
বৃষ্টি ঝরছে অঝোর ধারায়!
টিনের চালায় রিমঝিম
সেতারের করুণ মূর্ছনায়;
সুর-ছন্দে তাল ও লয়ে
কত স্মৃতি মনে পড়ে যায়!
মুধুর হতো যদি সে একবার
আসতো এই ছোট্ট মথুরায়!

আকাশে বিজলীর চমকে
চোখ যায় শাখায় শাখায়;
আম-সুপারি-কাঁঠালের
মগডালগুলো মৌণ মলিন,
বিষণ্নতায় তাঁর প্রতীক্ষায়!

নিরবিচ্ছিন্ন কান্না-বৃষ্টির
শীতল জলে প্রশমিত হয় না
বুকের বাম তপ্ত উনুন।
যে খেলিছে রথ দেখা ছলাকলা
সে রয়েছে আমার মায়াকাননে
আগেরই মতন চির তরুণ!

বিজলির চমকিত আলোতে
দু'চোখে যত দূরে যায়;
ছায়ামূর্তি দেখে মনে মনে
ভাবি এই বুঝি সে এসে
দরজায় কড়া নাড়ায়!

দ্বার খুলে দেখি শা শা বরষা;
কেউ নাই কেউ আসে নাই!
মৌণ আর্তনাদে হৃদয়ের
তন্ত্রীগুলো ছিড়ে ছিঁড়ে যায়!

বলা না যায়, সওয়া না যায়
চিৎকার করে কাঁদা ও দায়;
শুধু অনুভব করা যায়
হায়, মানুষ কত অসহায়!

আশাহত করে এবারের
বর্ষাটাও চলে যায়;
কেউ তো এলো না আজো,
বিবর্ণ জীবনটা রাঙ্গাতে হায়!

শ্রাবণের রাত্রি শুধু প্রতীক্ষার;
বিমুর্ত প্রতীক বিরহ বেদনার!
জলের তলে আগুন জ্বলে,
সাথী আমার শুধু হাহাকার!

কাব্যগ্রন্থঃ নিরব কথোপকথন

English Translate


  • পড়া হয়েছেঃ ৪০
  • লেখার সময়ঃ বুধবার, ১৪ আগস্ট ২০১৯
  • লেখার স্থানঃ শাওনাজ, উত্তরখান, ঢাকা।
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৪ আগস্ট ২০১৯

বিঃদ্রঃ মুক্তকলাম সাহিত্য ডায়েরি, লেখকের মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে, কোন লেখা সম্পাদনা করা হয়না। লেখার স্বত্ব ও দায়-দায়িত্ব শুধুমাত্র লেখকের।