আবুল হোসেন খোকন

আবুল হোসেন খোকন

লেখকের রচনাসমগ্র



ঝোল-ঝোল মাংশের ঘ্রাণ

পাশের বাড়িতে বুঝি আজ মাংশ রান্না হচ্ছে,
কশানো মাংসের ঘ্রাণে ম’-ম’ করছে আশপাশ।
এপাশ থেকে চোখ বন্ধ করে আমি
সব দেখতে পাই।
আহ্-হাজল ঢেলে দিলো এতো তাড়াতাড়ি!
আরেকটু কশানো দরকার ছিলো মাংশটা
মশলার পুরোটাই মাংশে মিশে গিয়ে যখন
তেল ভেসে উঠতো,
দরকার ছিলো তখন জল দেয়া,
তাহলে ঘ্রাণটা আরেকটু অন্যরকম হতো।
স্নানশেষে লেগে থাকা
অনিন্দিতার গায়ের ঘ্রাণের মতো
বুক ভরা প্রলম্বিত নিঃশ্বাসে যেই ঘ্রাণ
আপনা থেকেই বন্ধ করে দেয় দুই চোখ,
ঠিক তেমন একটা মিহি ঘ্রাণ চলে আসতো
পাশের বাড়ির কশানো মাংশে।
এখন অবশ্য একটু ঝোল-ঝোল রাখলেই
মাংশটা স্বাদ হবে খুব।
ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সাথে বেশ জমে যাবে।

ছেলেবেলায় মা রাঁধতেন অমন।
অনাহারী ঘরে ছ’মাসে-ন’মাসে একবার,
লাল তেলে উঁকি মেরে নিথর দিঘীর মতো
পড়ে থাকতো আলু আর মাংশের ঝোল,
সেদিন নিজেদের ধনী ভাবতে ইচ্ছে হতো খুব।
ধোঁয়ার কুয়াশায় ঢাকা ভাতের চাঁই সামনে নিয়ে
পাতে পড়তো বহু যত্নে মায়ের ইঞ্চি মাপে কাটা
সেই স্বপ্নের মাংশ, দুই টুকরো সর্বোচ্চ;
সাথে বানের মতো ঝোল।
গোগ্রাসে খেতে-খেতে সেই ঝোলভাত হঠাৎ
যদি চোখ পড়তো মায়ের চোখে কখনও
দেখতাম, মা কেমন বিমোহিত ছলছল চোখে
দেখছেন নিজের সন্তান তার তৃষ্ণার্তের মতো।
ঝোল-ভাত-মাংশ সামনে নিয়ে অমন
মায়ের কেন ছলছল চোখ
ওসব মাথায় নেয়ার পরিস্থিতি নেই আমার;
মাংশটুকু পাশে রেখে শুধু ঝোল দিয়ে ভাত শেষ
এবার আয়েশে আমার মাংশ খাবার পালা।
খাওয়া শেষে হাত ধুতে গিয়ে মনে হতো
আজ যদি এঁটো হাত না-ই ধুই ক্ষতি কি?
মাংশতো শেষ,
ঘ্রাণটুকু না হয় এঁটো হাতে লেগে থাক।

ফেলে আসা সেই ঝোল-মাংশের ঘ্রাণের আশায়
আজও আমি হাত শুঁকে দেখি মাঝে মাঝে,
আছে কি না;
আজও আমি বুকে টানটান দম ধরে খুঁজি
অনিন্দিতার ঘ্রাণ
ঝোল-মাংশের সেই ঘ্রাণের মতো বায়বীয়,
এঁটো এই জীবনের ভাঁজে, সন্ন্যাসে।

বিঃদ্রঃ মুক্তকলাম, লেখকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে, লেখা সম্পাদনা করে না। লেখার স্বত্ব ও দায়-দায়িত্ব শুধুমাত্র লেখকের।
রচনাটি অন্য ভাষায় পড়ুন

মন্তব্য - ০

কোন মন্তব্য নেই
মন্তব্যের জন্য লগইন করুন

সর্বশেষ প্রকাশিত