তবুও ভালবাসি তোমায় (১)


মিষ্টু যার অপর নাম গল্পের পোকা। প্রিয় শখ বইপড়া। কবিতা লেখা। অবসরে বিভিন্ন বই পড়ে, কবিতা লিখে সময় কাটাতে ভালবাসে মিস্টু। ফেসবুকে লেখা বিভিন্ন গল্পগুলো ও বেশ আগ্রহ সহকারে পড়ে। আজও সে একটা গল্পই পড়ছে বাস্তব জীবনের গল্প। লেখক আবির সারোয়ার। কোনো বিখ্যাত লেখকের নাম নয় এটা ফেসবুকেই লেখালেখি করে আরকি। তবে বেশ ভালই লেখে অভিঙ্গতা সম্পন্ন দক্ষ মানুষের মত। লাইক, কমেন্ট দেখেও বেশ জনপ্রিয় মনে হয়। মিস্টুও প্রায় প্রতিটা রেখা পড়ে কমেন্ট করে বাট কখনো চ্যাট হয়নি। আজকের লেখাটা পড়ে ভাবলো একটা পরিচিত হয়ে নেয়া যাক। প্রোফাইলে তেমন কনো তথ্য কিংবা ছবিটাও দেয়া নেই লোকটার ভারী অদ্ভূত মনে হয়। তাই আরও আগ্রহ টা বেশী। মিষ্টুর প্রোফাইলেও ওর ছবি দেয়া নেই বাট বাকি তথ্য দেয়া আছে। মিস্টুর প্রথম ম্যাসেজ আবিরকে
Hi, ami Rukayya tasnim mistu.
amra ki porichito hote pari?
আবির,
হুম, কেন নই!
mistu,
ami apnr fb te lekha golpo gulo pori. bes vlo lekhan to apni.
আবির,
Thanks,
but ototaw vlo noy amnitey vlo lage ty.
মিস্টু
আচ্ছা আপনি কি করেন? আপনার প্রোফাইটা দেখে ফেক আইডি মনে হয় কিছু লেখা নেই এমন কি ছবিটাও দেয়া নেই। কেন?
আবির,
দেখতে খারাপ তো তাই। আর বেকার মানুষ কি আর লিখবো তাই ফাঁকাই রেখেছি যেদিন বিশেষ কিছু হব সেদিন পূরন করে দিব।
মিস্টুঃ ভারী অদ্ভূত তো আপনি!
আবিরঃ না, না তা হতে যাব কেন সাধারণ একটা মানুষ মাত্র।
তা আপনি কি করেন?
মিস্টুঃ আমি আপনার মত কথা প্যাচাতে পটু নয় তাই সহজ ভাবেই বলছি, আমি সাইক্লোজিতে অনার্স করছি ফাইনাল ইয়ার এবার।
আবিরঃ গুড।
আচ্ছা পরে আবার কথা হবে একটু বাইরে যাব। ভাল থাকবেন।
- হুম আপনিও।
এভাবে দুজনের প্রায় কথা হতে লাগলো। ধীরে ধীরে বেশ ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গেল দুজনের। ৮ মাস হয়ে গেছে এভাবেই চলছে দিন ওদের কথপোকথন মাঝে মাঝে বেশ ঝগড়া লাগে দুজনের আবিরের পেচুক কথার কাছে হেরে গিয়ে। তর্ক আর যুক্তিতে সবসময় আবির এক্সপার্ট। মিস্টু খুব রেগে গেলেই আবিরের রিপলে দেয়া বন্ধ করে দেয়। আবির ই আগে সরি বলে। আপনির জায়গায় তুমি যুক্ত হয়েছে। দুজনের কথায়।
আবির ঃ আচ্ছা মিস্টু তুমি কি দেখতে ঝাসিকি রাণীর মত? রাগলে গাল দুটো লাল হয়ে যায়?তখন দেখতে হুতুম পেঁচার মত লাগে তাইনা?
মিস্টুঃ আবিরের বাচ্চা সামনে পেলে তোমার মাথার চুল আমি একটাও রাখতাম না! কথা বলবানা তুমি আমার সাথে যাও।
আবিরঃ হাহাহা। যাও আর খ্যাপাবো না। আসলে কি জানোতো তোমাকে আমার খ্যাপাতে বেশ লাগে।

ইতিমধ্যে মিস্টুর পরীক্ষার রুটিন হয়েছে তাই পড়াশুনাই ব্যাস্ত ফেসবুকে আর আসেনা ১৫ দিন থেকে।
আবির প্রথম কয়েক দিন মিস্টু কে মিস করতো বাট এখন যা হয় তাতে মনে হয় সে যেন কোনো এক কঠিন রোগে ভুগছে কিছুই আজকাল ভাল লাগেনা। মিস্টুর সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছা করছে কিন্তু ফোন নং টা কখনো নেয়া হয়নি। কে জানতো মিস্টুটা এমন হুট করেই উধাও হয়ে যাবে। জানলে বাড়ির ঠিকানা টাও নিয়ে নিতাম ফোন নং এর সাথে। আবির জানেনা সে ঠিক করছে কিনা বাট একটা কিছু হচ্ছে তার মধ্যে।
কি সেটা?
প্রেম? নাকি শুধুই বন্ধুত্বের আবেগ?
কথা আজ বলতেই হবে মিস্টুর সাথে বাট কিভাবে!
মিস্টুর সাথে কথা বলতে বলতে একবার জানতে পেরেছিল ওর কাজিন হিয়া'র কথা। মিস্টুর ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে হিয়া কে খুজে বের করে আবির ম্যাসেজ করে মিস্টুর ব্যাপরে জানতে চাই প্রথমে আপত্তি করলেও পরে আবিরের সবকথা শুনে হিয়া মিস্টুর ফোন নাম্বার টা দিয়ে দিল।
আবির মহা খুশি যেন আকাশের চাঁদ টাই হাতে পেয়ে গেছে।
মিস্টুকে বারবার কল করছে বাট কই মিস্টু ফোনটা রিসিভ করছেনা।
অবশেষে ফোনটা রিসিভ হলো
_ হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম কে বলছেন?
কনো আওয়াজ নেই
- হ্যালো, কথা বলছেন না কেন?
হঠাৎ একটা চাপাস্বরে কান্নার আওয়াজ শোনা গেল।
মিস্টুঃকে?!
আবিরঃ অজান্তেই বলে ফেললো I Love U
মিস্টুঃ অবাক হয়ে কে?
_তোমার আবির।
আবির তুমি! কিভাবে কোথায় ফোন নং পেলে!
হু পেয়েছি অনেক কষ্টে! তুমি এভাবে কিছু না বলে এমন করলা কিভাবে? সেই রাগ মিস্টুর উপর আজ প্রথম মিস্টু আবিরের রাগান্বিত আওয়াজ শুনছে আর আজকেই প্রথম ফোনালাপ (চলবে)

English Translate


  • পড়া হয়েছেঃ ১২৩
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

বিঃদ্রঃ মুক্তকলাম সাহিত্য ডায়েরি, লেখকের মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে, কোন লেখা সম্পাদনা করা হয়না। লেখার স্বত্ব ও দায়-দায়িত্ব শুধুমাত্র লেখকের।