তবুও ভালবাসি তোমায় (২)


এতদিন তো মিস্টুর ই আবিরের প্রতি অভিমান হতো, আজ প্রথম আবির কে মিস্টুর প্রতি এমন রাগ করতে দেখে ভাবলো একটু মজা নেওয়া যাক তাই সে আবির কে বললো আচ্ছা আবির তুমি রাগ করলে কি তোমার মাথার চুল গুলো সজারুর মতহয়ে যায়? চোখ দুটো ফুচকার সমান হয়ে যায়?

আবিরঃ আমার জীবন বের হয়ে যাচ্ছিল আর তুমি ফাজলামু করছো! খুব মজা লাগছে তাইতো নাও নাও মজা নাও হাসো দিন আমারও আসবে!

মিষ্টুঃ ওকে বাবা সরি আর হাসবনা আর তোমাকে না বলে কোথাও হারিয়েও যাবনা। এবার খুশিতো?
- না পুরো খুশি না। তোমার বিশ্বাস নাই আবার হারিয়ে যেতে পার পুরো ঠিকানাটা ম্যাসেজ করে দাও এবার হারিয়ে গেলে তোমার বাড়িতেই চলে আসবো।
এভাবে ফোনালাপ চলতে থাকে প্রতিদিন। মিস্টু বেশ ঘুম কাতুরে কথা বলতে বলতেও ঘুমিয়ে পড়ে আর প্রতিদিন ঠিক পাঁচটায় আবির ফোন করে মিষ্টুর ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। কাল মিস্টুর পরীক্ষা শেষ সো চিন্তাভাবনা আজ অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমাবে কিন্তু সেটা আর হলোনা প্রতিদিনের মতই ঠিক পাঁচটাই আবিরের ফোন আসলো।
_ আবির পরীক্ষাতো শেষ আর একটু ঘুমায় না!
_ নো ম্যাডাম অনেক তো ঘুমাইছেন এবার উঠে নামাজ পড়েন। আর সারারাত জেগে যে কেউ আপনাকে পাহারা দিচ্ছিলো তার তো ঘুমানো লাগেনা তাই না?
_ আবির! তুমি ঘুমাওনি? কি করছিলা সারারাত!
_ নাইট ডিউটি।
_ ফাজলামু রাখ ঘুমাওনি কেন তাই বলো?
_ সত্যি তোমাকে পাহারা দিচ্ছিলাম, মানে তোমার কথা ভাবছিলাম আর দেখছিলাম তুমি ঘুমিয়ে থাকলে তোমার ফেশটা ঠিক ছোট বাচ্চার মত ইনসেন্ট দেখায়।
_ এই তুমি আমাকে দেখছো কখনো! আমাদের তো কখনো দেখায় হয়নি তবে কিভাবে বুঝলা যে কেমন লাগে?
_ হা হা হা মনের চোখ দিয়ে দেখিরে পাগলি।
_ আচ্ছা আবির আমাকে তোমার কখনো দেখতে ইচ্ছা হয়না?
_ হুম হয়তো বাট ভয়েই দেখা করিনা।
_ ভয়! কিসের ভয়?
_ তোমাকে হারানোর ভয়!
_ ধুর কি সব বলনা তুমি আগামাথা কিছু বুঝিনা আমি!
_ হুম বুঝতেও হবেনা তেমাকে।
কয়েক দিন পর দুজনেই কিছু বলবে দুজনকে বলে ঠিক করলো।
_ আবির তোমাকে কিছু বলার ছিল।
_ আমারও।
হুম বলো। না তুমি আগে বলতে চাইলে সো তুমি আগে বলো।
_ আবির আমার পরীক্ষা শেষ বাবা মা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার আমার
- হুম আর বলতে হবেনা বুঝে গেছি। মিস্টু দেখা করবা আমার সাথে?
_ হুম। কোথায়, কখন, কবে, কিভাবে? বলো
আগামী শনিবার আমি রাজশাহীতে আসবো তুমি স্টেশনে এসো।
_ তোমাকে চিনবো কিভাবে? আমাকে চিনতে হবেনা আমি তোমাকে চিনে নেবো। মিস্টু
- হুম বলো। একটা কথা বললে রাখবে?
_ হুম বলো।
- আসার সময় একটা নীল শাড়ি নীল টিপ, আর সাদা রংএর ম্যাচিং ব্লাউজের সাথে গাঢ় করে ঠোঁটে লিপস্টিক.
_ হুম আসবো। তোমার খুব ইচ্ছে তাইনা আমাকে এভাবে দেখার?
_ হুম অনেক! কল্পনায় বহু বার দেখেছি তোমায় এইসাজে বাট বাস্তবে দেখতে চাই। কি জানি যদি এই দেখায় শেষ দেখা হয়
_ আবির এভাবে বলছো ক্যানো? কি হয়েছে তোমার?
_ কিছু না। তাহলে দেখা হচ্ছে আমাদের।
শনিবার যথা সময়ে যথা সাজে মিস্টু হাজির স্টেশনে আবিরের জন্য অপেক্ষা করছে। ধীরে ধীরে সবাই স্টেশন ত্যাগ করে চলে গেল কিন্তু আবির কোথায়? তবে কি সে আসবেনা! মিস্টুর মন বলছে আবির এসেছে কিন্তু কোথায় সে? ফোনটাও অফ আবিরের।
এদিক সেদিক হন্যে হয়ে আবিরকে খুজছে মিস্টুর দুচোখ।
হঠাৎ চোখে পড়লো একটু দূরে কেউ একজন ফুল হাতে বসে আছে। বয়স আঠারো/১৯ হবে। মিস্টু সেদিকেই এগিয়ে যেতে লাগলো আর ভাবতে লাগলো ওটাকি আবির? না, না ওটা কিভাবে আবির হতে পারে! আবির হলেতো আমাকে নীল শাড়িতে দেখে কাছে আসতো।
তবুও এগিয়ে যেতে লাগলো একটা সময় ঠিক ছেলেটার কাছে পৌছে গেলো মিস্টু। জিঙ্গেস করলো আপনি কি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন?
ছেলেটি কিছু না বলেই মাথা নিচু করে বসে আছে।
আসলে এটাই আবির। সে মিস্টুর থেকে বয়সে ছোট কিন্তু কথাটা সে গোপন করেছে। তাই আজ মিস্টুর সামনে আসতে এত ভয়, দ্বিধাদন্দ। কিন্তু সত্যি সে মিস্টুকে অনেক ভালোবাসে। আর কখন কিভাবে হয়ে গেছে সে বুঝে উঠতে পারেনি সাহস করে মিস্টুকে সত্যটাও বলতে পারেনি। যদি মিস্টু তাকে
নানা দ্বিধাদন্দিতার মধ্য দিয়ে আজ সে মিস্টুকে সত্যটা বলতে এসেছে কিন্তু ওর সামনে যেন আবির ভাষাহীন হয়ে পড়েছে আজ। মিস্টুর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু একবার বড় সাহস করে ওর মুখের পানে চায়লো আবির। চোখ দুটো অশ্রু সজল। ফোনটা বের করে মিস্টুর ফোনে একটা কল দিলো মিস্টুর ফোনে রিং বেজে উঠতেই মিস্টু অবাক দৃষ্টিতে আবিরের দিকে তাকায়ে জিঙ্গেস করলো তুমি আবির!(?)
মিস্টুর আবিরকে দেখে খুব খুশি হবার কথা ছিল বাট এখন প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। রাগেই হাতেই চুড়ি গুলো খুলে স্বজোড়ে নিচের দিকে ছুড়ে ফেলে কাঁদতে লাগলো।
এবার আবির মিস্টুকে কিছু বলতে, বোঝাতে উদ্যত হলো এই ভয়টায় আবিরকে এতদিন মিস্টুর থেকে দূরে রেখেছিল।
আবির সবে পলেটেকনিকে পড়ুয়া ৬ ষ্ট সেমিস্টারের ছাত্র। মিস্টুর অনার্স শেষ দুজনের মধ্য বয়সের বেশ ব্যবধান কিন্তু তাতে আবিরের কিছু যায় আসেনা। ভালোবাসাকি এতকিছু বিচার করে হয় এটা বিধাতার দান।
আবির মিস্টুকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ। সবটা শোনার পর মিস্টু একমুহূর্ত দেরী না করে সেখানে বাড়ির দিকে রওনা দিলো। ফুল গুলো মিস্টুর চুড়ির মতই পড়ে রইলো মাটিতে মিস্টুকে আর দেয়া হলোনা। আবির প্রচন্ড জোরে কাঁদতে কাঁদতে বললো যেওনা আমাকে একটু বোঝার চেষ্টা করো সত্যি আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি মিস্টু। আমি তোমার যোগ্য হয়ে উঠবো আমি সবটা সামলে নিবো শুধু তোমাকে পাশে দরকার এজন্য। কিন্তু মিস্টুর কানে আবিরের কথা গুলো পৌছায়নি সে আর পিছু ফিরে তাকাইনি.

English Translate


  • পড়া হয়েছেঃ ১২৯
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

বিঃদ্রঃ মুক্তকলাম সাহিত্য ডায়েরি, লেখকের মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে, কোন লেখা সম্পাদনা করা হয়না। লেখার স্বত্ব ও দায়-দায়িত্ব শুধুমাত্র লেখকের।