কাহিনীর কোন মানে নেই

"কারো সাথে আর কোনদিন ভাল করে কথা বলব না, বিশেষ করে কোন পুরুষের সাথে!

কেনই কথা বলবো বা মিশবো?
মানুষ তো সরলতার সুযোগ নেয়;আর মুখরোচক আলোচনায় মেতে স্বর্গ সুখ পায়! যেনো তাদের কোন ভুলেই নেই!
তারা ফেরেস্তা!"

উর্মির কথায় সজীব বলে, "এমন কাজ করবেই না যেনো তোমায় নিয়ে এসব কেউ বলার সাহস রাখে!
কিন্তু আমার সাথে মিশবে বুঝলে? কারণ, আমি তোমার ভাল চাই!"

"বুঝলাম!" উর্মি আর ভাবতে পারে না!
তার চিন্তার ক্ষেত্রটা বিশাল ছিল; দিন দিন সেটি যেনো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে!

গ্রন্থাগার থেকে সে বাসায় ফিরেই দপ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো!
মা, মিসেস সানু তার এমন অগোছালো দৃশ্যটি দেখে রীতিমতো শাসন শুরু করে দিলেন!
মায়ের কথায় মোটেই পাত্তা না দিয়ে, এভাবেই ক্লান্ত ও বিষন্ন মনে ঘুমিয়ে গেল উর্মি!
একফাঁকে মা এসে ভাত খাওয়ার জন্য তাড়া দেয়া সত্ত্বেও যখন উর্মির কোন সারা পেল না তখন, মমতাময়ী মা মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল ঘুমোতে!

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই উর্মি সাংসারিক কিছু কাজ সারলো! সারাদিন মা এতো ধকল একাই করে!
মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চায়! মেয়েকে তিনি এই শিক্ষাই দিয়ে বড় করেছেন!
মায়ের সেই শিক্ষাটুকুই পুঁজি করে উর্মির কর্মক্ষেত্রে চলাফেরা! সে একটি সাংগঠনিক লাইব্রেরিতে পার্টটাইম জব করে। কিন্তু সেটাতে নানান লোকের আনাগোনা, যদিও উর্মির কাছে অস্বস্তিকর তবুও কর্মের তাগিদে
তাকে করতেই হয়! বাবার ইনকামে ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ তার উপরে উর্মির খরচ চালানো মোটেই সম্ভব নয়!
সহজ-সরল প্রকৃতির নিন্মমধ্যবিত্ত সংসারের বড় সন্তান হিসেবে হাল ধরা ছাড়া, তার আর কোন উপায় ছিল না!
উর্মি দেখতে অনেক মিষ্টি মেয়ে বলেই নানান পুরুষ তার সাথে কথা বলতে চায়, মিশতে চায়! আর অভাব- অনটনের কথা শুনে তো অনেকেই টুপ ফেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে! কিন্তু যখন তার উদ্দেশ্য সফল হয় না তখনেই আজেবাজে কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়!
তাই চাকরিটা উর্মি আর করবে না বলে স্থির করে!গতকালের বিষয়টাও এরকমই একটা তুচ্ছ বিষয় ছিল আর সেটাকে কেন্দ্র করে, পরিচিতদের মধ্যে নাকি কটুক্তি হয়েছে তাকে নিয়ে; এমন কথাই জানালো তাকে! সজীব যখন এসব কথা রেগেমেগে বলা শুরু করলো, একপর্যায়ে উর্মিও কারোসাথে মিশবে না বলে মনখারাপ করে চলে এসেছিল! কিন্তু আজো তাকে সেই কর্মে যোগদান করতে হবে! উর্মি চাকরিটা ছেড়ে দেবে; তা কদিন ধরেই ভাবছে!
কিন্তু ছাড়তে হলে তো তাকে আরেকটা চাকরির যোগাড় করেই ছাড়তে হবে!
এসব ভাবনায় রাতদিন ভাল মানুষদের সন্ধান করে সে!
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই তার আসলরূপ দেখিয় দেয়!
নাস্তা বানিয়ে টেবিলে রাখতে রাখতে নানান টেনশন করতে থাকে উর্মি!

হঠাৎ ফোন বেজে উঠে! ফোনটা রিসিভ করার জন্য উঠাতেই দেখে রেজার ফোন!
উর্মি আসলে সবসময়েই রেজাকে তার প্রয়োজনের কথাগুলো জানায়! রেজাও তাকে সহযোগিতা করে।

কিন্তু, গতকাল সজীব যে সমস্ত কথা বলেছে তারপরে আর কোন পুরুষের ফোন ধরার ইচ্ছে উর্মির একদম নেই; তবুও ফোনটা উঠাতে হল! কারণ, রেজা বিশেষ কারণ ছাড়া ফোন কল দেয় না!

ফোন উঠাতেই উর্মীকে বলল, "হ্যালো উর্মি, তারাতাড়ি চলে এসো একটা মিটিং আছে। "

অগত্যা উর্মিকে যেতে রাজি হতে হলো, কারণ রেজাভাই উর্মির বর্তমান রোজগারের অভিভাবক আর কোনদিন কোন বাজে কারণে ডাকে নি বলেই ভরসা করতে চায় সে! কিন্তু তবুও উর্মি জানে কৌশলে অনেক কাজ উদ্ধার করে নেয় রেজা; যা তার জন্য লাভ জনক! কিন্তু তাতে কী? চরিত্রের স্খলন জনিত কোন বিষয় এখনো সে পায় নি রেজার কোন আচরণে!তাই,
উর্মি তাকে শ্রদ্ধার চোখেই দেখে! উর্মি এতটুকু ভালো করেই বুঝে, আর তা হল, কোনকিছু লাভ ছাড়া কেউ কেন তার ভাল চাইবে বা করবে!
তাই, মিটিং শুরু হওয়া আগ মুহূর্তেই পৌঁছে গেল উর্মি!
রেজাভাই চেয়ারটা এগিয়ে দিয়ে বলল, 'উর্মি আজ যিনি আসবেন উনি অনেক বড় মাফের একজন সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মানুষ। তোমার তো একটা চাকরির খুব দরকার তাই পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই ডাকলাম।
উনার সুপারিশ পেলে হয়তো কোথাও একটি কর্মসংস্থান মিলে যেতে পারে তোমার! আর লাইব্রেরীর নানান মানুষের কথা ও জটিলতা ভূগতে হবে না তোমার! তাছাড়া মোটা অঙ্কের বেতনও পাবে!" রেজার কথাটা শেষ হওয়ার
কিছুক্ষণের মধ্যেই ভদ্রলোক চলে আসলেন!

উর্মি উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করে পরিচিত হল!
রেজা তখন আগ বাড়িয়েই একটু পরিচয় করিয়ে দিলেন!

লোকটির বয়স প্রায় পঞ্চাশের বেশি বই কম হবে না!
কিন্তু তিনি যে অত্যন্ত প্রতাপশালী তা দেখেই বুঝা গেল!

রেজা তেমন কোন কাজের আলাপ না করেই, উর্মির চাকরির জন্য সরাসরি রিকুয়েস্ট করলো!

লোকটি উর্মিকে একটু ভাল করে দেখে নিয়ে বলল, "কোম্পানিতে জব করবেন?" উর্মি কিছু বললার আগেই রেজা বলে উঠলো, " নিশ্চই করবে!" লোকটি তখন বলল, "আমার কোম্পানিতে সিভি ও সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে দিবেন;
আগামীকাল সকাল দশটার মধ্যে এগুলো নিয়ে চলে আসবেন!"

উর্মি মোটেই আনন্দিত হতে পারলো না এমন তড়িঘড়ি চাকরির খবরে!মূলত সে একটি সরকারি চাকরি চায়; তাছাড়া, কোম্পানিতে এত সহজে কেন লোকটি চাকরি দিতে রাজি হল সেটাও তার ভাবনায় নাড়া দিচ্ছে! আর রেজা এতো কেন চেষ্টা করছে তারজন্য? নানান ভাবনার পরেও উর্মি শেষপর্যন্ত না দেখে ছাড়বে না বলে নীরবে রইল!

এদিকে, সজীব বার বার ফোন দিচ্ছে আর ম্যাসেজ করেই চলেছে!

একবার ফোনটা বন্ধ করে রাখলো উর্মি!

রেজা বলল, " তোমার তো চাকরি হয়েই গেছে এবার চলো বাইরে কিছুক্ষণ ঘুরে কিছু খাওয়া দাওয়া করি!"
উর্মি আপত্তি জানিয়ে বলল, "অন্যদিন "

বিদায় নিয়ে যখন বাসার কাছে পৌঁছালো তখনেই দেখতে পেলো, সজীব গেইটে দাঁড়িয়ে সিগেরেট টানছে!
সজীবকে খুব উদাসীন আর বিরক্ত মনে হল!

সজীব উর্মির জন্যই অপেক্ষা করছে তা উর্মি বুঝতে পেরেছে!

উর্মি সজীবের সাথে দু' চার মিনিট কথা বলে বুঝতে পারলো যে, সজীবের সাথে আর কখনোই কথা বলা যাবে না! সজীব উর্মিকে সরাসরি বলে ফেলল, "আমি তোমাকে পেতে চাই যে কোনমূল্যে! " উর্মি জানে সজীব বিবাহিত তবুও এক এলাকার মানুষ বলে বড়ভাই হিসেবে মান্যকরে চলে উর্মি! তাছাড়া একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে গেছে তাদের পারিবারিকভাবে! সজীবের বৌ- বাচ্চা উর্মিদের বাসায় কয়েকবার এসেছে! ধরতে গেলে পারিবারিক একটা সু-সম্পর্ক তাদের! সজীব চায় উর্মির সাথে অবৈধভাবে মেলামেশা করতে আর তার নাম দিয়েছে— প্রেম! উর্মি হতবাক হয়ে জানতে চাইলো, আপনার বৌ- বাচ্চা থাকার পরেও ছোটবোনের বয়সী মেয়েকে এমন জঘন্য প্রস্তাব দিচ্ছেন আবার এটাকে প্রেম বলেও অভিহিত করতে চাচ্ছেন! ছি! সজীব তখন একটি মজাদার কাহিনী বানিয়ে উপস্থাপন করলো, আসলে উর্মি তুমি তো জানোই না, আমি যাকে পছন্দ করতাম তাকে আমি পাইনি! সে মারা গেছে। আর তুমি ঠিক তার মতোই দেখতে! আমার বৌয়ের একটা বড় অসুখ;অনেক বছর ধরে তার সাথে আমার তেমন সম্পর্ক নেই আর আমি তোমাকে ভালোবাসি উর্মি!" উর্মির তখন গা ঘিন ঘিন করছে তবুও কিছু না বলে বাসায় ঢুকলো সে!
সজীব যে এমন কিছু বলবে তা প্রথমে উর্মির বোধগম্যই হয়নি! কিন্তু গতকয়েকদিন ধরে তার কাছে তা অস্পষ্ট ছিল না! কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক কারণে নীরবে থাকতে চেয়েছিল!সম্পর্কে কোন ফাঁটল ধরতে দিতে চায় নি উর্মি! আর উর্মি এটাও জানে, যদি ঘটনাটা কেউ জানতে পারে তবে নারী হিসেবে আঙ্গুলটা প্রথমে তার উপরেই উঠবে! সমাজ কখনোই সত্যতা যাচাই করে কথা বলে না! সবসময়েই মেয়েমানুষের চরিত্রে দাগ লাগাতে সচেষ্ট থাকে! উর্মি তাই সব না বলেও শেষে নিজেকে কলঙ্কিত করার হাত থেকে বাঁচাতে কথা না বাড়িয়ে বাসায় চলে গেল!

উর্মি আর এসব বিষয়ে টেনশন নিতে পারছে না! সমস্ত বিষাদ যেনো ঘ্রাস করতে চায় তাকে!
কোনভাবে দিনটা পাড়ি দিয়ে সকাল সকাল সমস্ত পেপার'স নিয়ে যতারীতি অফিসের ঠিকানায় পৌঁছে গেল উর্মি!
সাথে রেজা ও গেল!

কাগজ- গুলো বের করতে করতে যখন কাজটা সম্পর্কে জানতে চাইলো সে; তখনই উর্মির সন্দেহটা বাস্তবে রূপ লাভ করলো!
তাকে সারাদিন বসের সাথে থাকতে হবে, গাড়ি করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হবে, আর তার প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পাদন করে তারপর বাসায় ফিরতে হবে! অবশ্য আনলিমিটেড সেলারি দেবে বলে জানানো হল তাকে! উর্মি কখনোই তা করতে পারবে না বলে ওখান থেকে উঠে সোজা বাসায় চলে আসলো!যদিও রেজা ও কোম্পানির মালিক বিরক্ত হল উর্মির প্রতি; তবুও এমন কর্ম সে করতে পারবে না বলেই চলে আসল!
এর মাঝে আর কারো সাথেই যোগাযোগ করে নি উর্মি!
লাইব্রেরিতে বসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে সাহিত্যচর্চা করতে শুরু করলো!
সে দু' চার লাইন লিখেও ইদানিং! আর নারীদের ইতিহাস পড়ে। আর নারীবাদীদের সংগ্রাম কতদূর কার্যকর হয়েছে তা ভাবে!

কিছুদিন পর, রীতিমতো অবাক করে দিয়ে কোম্পানির মালিক তাকে ফোনে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলো!
উর্মি যখন জিগ্যেস করলো, "আপনি তো আমার বাবার বয়সী! তার পরেও কীভাবে এমন জঘন্য প্রস্তাব দেয়ার সাহস পান?"
লোকটি বলল, আসলে আমার বৌয়ের এখন কোন ক্ষমতাই নেই আমাকে সুখী করার মতো! তাই তুমি যদি রাজি থাকো আমি গোপনে তোমাকে বিয়ে করবো! আর তোমার পরিবার সহ তোমাকে সবরকম সুখ- সুবিধে নিশ্চিত করব! একটিবার বলো তুমি রাজি! দ্যাখো পৃথিবীর সমস্ত সুখ তোমার পায়ের কাছে এনে দেব! কেউ টেরও পাবে না!"
রেজার কথা যখন জানতে চাইলো উর্মি তখন লোকটি একটি বড় সত্য ফাঁস করে দিল উর্মির কাছে! রেজা নাকি একলক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরির নাম করে উর্মিকে কৃতদাসীর মতো রাখার কথা বলেছিল!
কিন্তু লোকটির নাকি খুব প্রেম উতলে উঠলো উর্মিকে দেখে! তাই; রেজার আড়ালে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে একলক্ষ টাকা সহ উর্মির সমস্ত ব্যয়ভার ও তার সংসারের সকলের দায়িত্ব নেয়ার মহত্ত্ব দেখাতেই ফোন দিয়েছে সে!

এসব শুনে উর্মির দু'চোখ অন্ধকার হয়ে গেল! চারিদিক গুমোট হয়ে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তার!
উর্মি ফোনটি কেটে সুইচ বন্ধ করে দিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো!

ঐদিনেই উর্মি লাইব্রেরির চাকরি ছেড়ে চলে আসলো!
মন খারাপ দেখে তার মা- বাবা সহ সকলের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হল তাকে!
আস্তে আস্তে সকলেই বিষয়টা একটু জেনে হাজার রকম কথা বানিয়ে সামাজিকভাবে অপদস্ত করা শুরু করলো উর্মির পরিবারের সকলকে!
সমাজে আর চলতে ইচ্ছে করে না উর্মির!
অর্থ আর ক্ষমতার বলে সমাজের সমাজসেবক গুলো নিজের বিয়ে করা বৌ'কেও অক্ষম বলে জাহির করে এভাবে ছোট করতে পারে যদি, তবে না পাওয়ার বেদনায় কতটা হিংস্র হতে পারে উর্মির প্রতি তা বলার অপেক্ষা রাখে না!এসব ভাবতেই গা ঘিন ঘিন করে ওঠে উর্মির! অস্বস্তিতে মরে যেতে ইচ্ছে করে তার!
মা- বাবার বোঝা হয়ে থাকতেই হবে তাকে, কারণ সমাজ এখনো নারীকে বিশ্বাস করে না! আর তার জন্যই উর্মি এখন সমাজে চর্চার একটি বড় অধ্যায় হয়ে গেছে!
পরিবারের সকলের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে নীরবে পড়ে থাকে উর্মি!

অর্থ আর ক্ষমতার বলে সমাজের সমাজসেবক গুলোই এমন জঘন্য প্রস্তাব দিলে উর্মির মতো মেয়ের ঘরকোণো হওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না!
উর্মি কাঁদে আর ভাবে, নারীর অধস্তনের কথা!

সুপ্রাচীনকাল থেকেই যদি সভ্যতার বিকাশে নারীর ভূমিকা থেকে থাকে তবে, নারী এখনো কেনো পণ্যসম? বেগম রোকেয়া, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, মাদার তেরেসার মতো অগণিত নারীদের অবদান কী বৃথা?

তাদের এতো পরিশ্রমের আজ এই মূল্য?
একবার উর্মি চায় চিৎকার করে পরিবার ও সমাজে তার অধস্তনতার কথা বলতে; পরক্ষণে ভাবে,
লক্ষ্মীবাঈ, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ও নবাব ফয়জুন্নেসা ও বেগম রোকেয়া যুক্তিবাদী মননচর্চার মাধ্যমে সমাজে নারীর কেমন অবস্থান প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পেরেছেন?যে সে জোর গলায় নিজের পবিত্রতার কথা জানালেই তারা বিশ্বাস করবে?

আসলেই কী নারীর মূল কাজ পুরুষের আনুগত্য স্বীকার করে চলা?

নারীবাদ যদি বিংশ শতাব্দীতে উদ্ভূত হয়েই থাকে তবে; এখনো কেনো নারীর লাঞ্ছনা সইতে হয়?
সভ্যতায় মানুষ হিসেবে লৈঙ্গিক বৈষম্য অবসানেই যদি নারীবাদী বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কাজ করে থাকে; তবে কেন এই শুভঙ্করের ফাঁকি?

সকল ক্ষেত্রে যদি নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হয় তবে, পুরুষ কেনো আজো লুটতোরাজ?
ইতিহাসের এতো এতো আন্দোলনকে সমর্থন করে কী লাভ হল তাহলে?
নির্বাচনী ভোটাধিকার, উত্তরাধিকারী সম্পত্তির অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বৈবাহিক জীবনে সমানাধিকার, রাজনীতি ব্যবসায, ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানে় সমান সুযোগ দিয়ে; নারীবাদী প্রবক্তাদের মৌলিক দাবি প্রতিষ্ঠায় কোন গোষ্ঠী উদ্ধার হল?

নারীবাদীরা নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ যদি করেই থাকেন তবে, এখনো নারী ভোগের সামগ্রী কী করে হয়?
প্রেমের নামে মিথ্যে ফাঁদে ফেলতে চাওয়াটাতে নারীকে কী সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়ার নাম?

নারীকে সহজ-সরল আর বোকা মনে করে এখনো কী স্বর্গীয় প্রেমের নামে ধোঁকার ফাঁদ পাতা হচ্ছে না সমাজে?

বিশ্বের নারীর কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেও কী পুরুষের মনোরঞ্জনের নিমিত্তে সক্রিয় দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে?
নাকি ঘর থেকে বের হওয়া আর নারীবাদী আন্দোলন করার জন্য যথাযোগ্য সাজা হিসেবে প্রাপ্যটুকু ভূগতে রাজি থাকতে হবে চিরকাল?
এভাবেই কী নিষ্ঠুর আচরণ ঘরে- বাইরের সকল স্ত্রী'লোক'কে আজীবন সয়ে যেতে হবে?

উন্মুক্ত হাওয়ায় দূষিত বায়ুর বিষাক্ততা ছড়ালেও কেউ বুঝবে না আর বলবেও না বলেই কী ঘৃণ্য চোরাবালির ফাঁদ পাতা হয়েছে স্বাধীনতার নামে?

সাম্যের গান ঠোঁটে বলে, অন্তরে কামনার আগুন জ্বেলে বাসনা চরিতার্থ করার এ ক্যামন ষড়যন্ত্র চলছে?

আমাদের চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই -এইসব বলে বলে বড় গলায় বক্তৃতা দিয়ে সভা কাঁপানোর কী মানে আছে?

আয়ামে-জাহেলিয়ার যুগে নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না জনসম্মুখে; আর বর্তমান সময়ে তা লুকায়িত বলেই কী সমস্ত প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য?

করপোরেট দপ্তরগুলোতে নারীরা বিভিন্ন পদবিতে নারী উদ্যোক্তা, নারী সংগঠক, নারী রাজনীতিক হিসেবে কর্মরত আছেন এর কী কোন মানে আছে,
যদি সেই নারীগণেই পুরুষের ভোগ্যপণ্য হয়ে থাকতে হয়?

মানবসভ্যতায় যে নারীদের রয়েছে বিপুল ঐশ্বর্যমণ্ডিত ইতিহাস, এরপরেও কেন এতো পরিতাপের বিষয় ঘটছে প্রতিনিয়ত?
নারী কেনো আজো নিগৃহীত, লাঞ্ছিত পীড়িত, অপমানিত, ও ধর্ষিত হচ্ছেন প্রতি ক্ষেত্রে?

সভ্যতার চরম উৎকর্ষের লগ্নে নারী নিরাপদ নয় স্বয়ং তার নিজ গৃহেও কারণ, স্বামীই যদি স্ত্রীর জীবদ্দশায় তার অপারকতা থাকলেও না থাকলেও হেয় করে অন্য নারীর কাছে অকপটে স্বীকার করে প্রেম করণা মাগে, তখন ঘরের সেই নারীটি যে কতটুকু ছোট আর অধস্তনের স্বীকার হয়, তা শুধু অন্য একটি নারীরই ভালোভাবে বুঝতে পারে!

পরিবর্তন এসেছে নারী শিক্ষায় তা বলে কী পুরুষের শিক্ষার কোন পরিবর্তন হয়েছে?

উল্লেখযোগ্য হারে নারী- শিক্ষার হার বেড়েছে; তাই বলে কী নারীর নিরাপদ কড়মসংস্ঃান সৃষ্টি হয়েছে আজো?
এখনো কী আত্মসম্মানবোধ ধ্বংস করতে, তির্যক দৃষ্টিতে নারীকে এখনো ঋজু করতে চেষ্টা করে না পুরুষ?

এসব নানান প্রশ্ন নিয়ে অন্ধকার ঘরে সংগ্রামী বক্তৃতা দিয়ে যায় উর্মি!

মাঝে মাঝে গরীব বাবা মানসিক নিরাময় কেন্দ্রে মেয়েকে দেখে নিয়ে যায়!

উর্মি এখন আর কাউকে চিনতে পারে না! শার্ট- প্যান্ট পড়াপুরুষের মতো কাউকে দেখলেই চিৎকার করে বক্তৃতা দিতে থাকে আর এই সমস্ত প্রশ্ন করতে থাকে আপন মনে!

আর কথার শেষে বলে, "কাহিনীর কোন মানে নেই!"