রোজা ও পিরিয়ড সমস্যা

রোজা ও পিরিয়ড সমস্যা

নাসরিন সিমি

শনিবার, ২৫ মে ২০১৯


একটা সময় ছিলো যখন মেয়েদের পিরিয়ড বা মাসিক ঋতুস্রাব হলে পরিবারের লোকজন তাকে বাইরে চলাফেরা স্কুলে যাতায়াত করতে নিষেধ করেছেন।

মেয়ের পিরিয়ড হয়েছে এ কথা আত্মীয় স্বজন বন্ধু পাড়া প্রতিবেশীদের থেকে লুকিয়ে রাখা হতো প্রাণপণে যেন কোন একটা সর্বনাশা কান্ড ঘটে গেছে সংসারে।

উঠতি বয়সী ছেলেরা ফিসফিস শব্দ করে মুখ টিপে হেসে হেসে স্কুলের বারান্দায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করতো।
কিন্তু এখন দিন বদলেছে। স্কুলের বইয়ে এ নিয়ে পড়ানো হয়। ছেলে মেয়েদের মধ্যে ধারণা দেয়া হয়েছে যে এটা লজ্জা বা লুকোচুরি করার কিছু নেই। পিরিয়ড একটা স্বাভাবিক শারিরীক পরিবর্তন। এ সময়ে স্বাস্থ্য সচেতন ও খাবার দাবারের প্রতি যত্নবান হতে হবে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে এ সময়ে মেয়েদের নামাজ ও রোজা রাখার ব্যাপারে নমনীয়তা দেখানো হয়েছে কিন্তু অচ্ছুত করা হয়নি। ঘরের কিশোরী বা যুবতী মেয়েটি রোজা না রাখলে আরেকটি কিশোর ছেলে প্রশ্ন করতে পারে।
আপু বা ভাবী রোজা রাখেনি কেন?
তাকে ধমক না দিয়ে সোজাসুজি সহজভাবে বুঝিয়ে বলুন
তার পিরিয়ড হয়েছে। এ সময়ে শারিরীক কষ্ট হয় তাই ধর্মীয়ভাবে এ সময়ে রোজা রাখার ব্যাপারে নমনীয়তা আছে বা নিষেধ করা হয়েছে।
আপনার উঠতি বয়সী ছেলে আর কখনো অযাচিত কৌতুহলী হবে না।
তাদের বুঝিয়ে বলুন পিরিয়ড কোন সমস্যা বা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়।

এটা সাধারণ প্রকৃতিগত একটা পরিবর্তন মেয়েদের শরীরের।
ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে মানসিক অবস্থার কিছু পরিবর্তন ঘটে যেমন মেজাজ খিটখিটে অথবা অযথা কান্নাকাটি ইমোশনাল হয়ে যাওয়া। এ সময় তুচ্ছ কারণেও মেজাজ খারাপ হয়ে যায় অনেকের। তাঁর মানে এই নয় সে এই চরিত্রের অধিকারী। সঙ্গী হিসেবে তাঁকে বোঝার চেষ্টা করুন এবং সহযোগিতা করুন কারণ সময়টা সত্যিই বেশ কষ্টকর একজন নারীর জন্য। সুতরাং আপনিও অভিমান বা রাগারাগি না করে আপনার মা বোন স্ত্রী কন্যা বান্ধবী অথবা প্রেমিকাকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করুন তিন থেকে পাঁচটা দিন। তাঁতে একটা সম্পর্ক অনেক সুস্থ ও সুন্দর ভাবে টিকে থাকতে পারে হয়তো।


  • পড়া হয়েছেঃ ১৩৩ বার
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৫ মে ২০১৯

সর্বশেষ প্রকাশিত