বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯

বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯

মোহাম্মদ মন্‌জুরুল আলম চৌধুরী

বুধবার, ৩১ জুলাই ২০১৯


বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং বৃক্ষরোপন

বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি আমরা প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ এবং বৃক্ষের প্রতি নির্মম নিষ্ঠুর নির্দয় আগ্রাসী আচরণ করছি। আমাদের ভয়ংকর আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের নদী খাল বিল পুকুর দিঘী জলাশয় ডোবা জলাধার কিছুই অবশিষ্ট থাকছে না। পাশাপাশি পাহাড় পর্বত টিলা কেটে সমান করা হচ্ছে। সমানে সংরক্ষিত, অসংরক্ষিত বনাঞ্চল প্রকাশ্যে অথবা অপ্রকাশ্যে রাতের আঁধারে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। সব দখল বেদখল হয়ে অপরিকল্পিত শিল্প কারখানা, নগরায়ন, উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা যত্রতত্র পলিথিন এবং প্ল্যাস্টিক বর্জ্য ফেলে নালা নর্দমা, নদী ভরাট করছি অহরহ। প্রকৃতি এখন মানবসভ্যতার সাথে রূঢ়, রুদ্র, বিরূপ, আগ্রাসী আচরণ করছে। আগাম বৃষ্টি, অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, শীত কালে কখনো হাল্কা শীত কখনো বা শৈত্যপ্রবাহ হচ্ছে, গরমকালে প্রচণ্ড দাবদাহ, বর্ষাকালে বৃষ্টির অভাব দেখা যাচ্ছে আবার কখনো বা ভারী বর্ষণ হচ্ছে। গরমের সময় ঠান্ডা আবার ঠাণ্ডার সময় গরম পড়ছে। মাঝেমধ্যে অসময়েও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গাছের সংখ্যা, সবুজ প্রকৃতি, বনায়ন ধ্বংস করা এবং দিন দিন কমে যাওয়ায় আবহাওয়ার গতি প্রকৃতি বদলে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে, কৃষি ফলন কম হচ্ছে। অতি বর্ষণ এবং উজানের পানি বৃদ্ধির কারণে প্রতিবছর দেশ বন্যাকবলিত হচ্ছে। ফলে কৃষিজাত শস্য, গাছ-গাছারি বিনষ্ট হচ্ছে। মানুষ, গবাদি পশু এবং জীব জন্তুর প্রাণহানীর পাশাপাশি খাদ্য সঙ্কট এবং অপ্রতুল বাসস্থনের সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড় পর্বত টিলা এবং পাহাড়ি এলাকার বন উজাড় আর পাহাড় কাটার জন্য পাহাড়ের মাটি ভারী বর্ষণ এবং অতি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের কারণে সম্পদ আর প্রাণহানী ঘটাচ্ছে প্রায় প্রতি বছরই। দেশের বন সম্পদ তা সংরক্ষিত হোক বা অসংরক্ষিত হোক তা মানুষের বেঁচে থাকাসহ মানুষের নানাবিধ উপকারে আসছে। জ্বালানী, আসবাবপত্র, ঘর বাড়ী নির্মাণে ব্যবহারের পাশাপাশি তা মানুষকে বাচিয়ে রাখার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করছে আর মানুষের নিঃশ্বাসের সাথে নির্গত দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখছে। ফল, ফুল, কাঠ, অক্সিজেন, গাছের ছায়া সবকিছু আমরা গাছ থেকে পেয়ে থাকি। তাই মানুষের প্রতি গাছের উপকারিতা বা উপযোগিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে একটি দেশে মোট ভূখণ্ডের কমপক্ষে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে আছে মাত্র ১৭.৫০ ভাগ। আবার যাও বা আছে তা আমরা নির্দয় নিষ্ঠুর আগ্রাসীভাবে ধ্বংস করছি। পশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৪ হাজার একর জায়গার বনভূমি উজাড় হয়ে গেছে বলে জানা যায় যা আমাদের দেশের পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীব বৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ ও ভয়ংকর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক, আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার। মানবিক বাংলাদেশ জানে না কবে কখন এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নৈতিকতা মানবতা বিচার বুদ্ধি বিবেক বিবর্জিত একশ্রেণীর লোভী মানুষ এবং সরকারের বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দিনে বা রাতে বন উজাড় হয়ে যায়। একগাড়ীর পারমিশনের সাথে টু পাইস দিয়ে ১০ গাড়ী কাঠ পার হয়ে যায় নির্বিঘ্নে। ফলশ্রুতিতে দেশের রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি তা দেশের পরিবেশেরও ভয়াবহ ক্ষতি করছে। জানা যায়, বনভূমি কমায় অতিরিক্ত কার্বন নির্গমনের ফলে বাংলাদেশের বায়ু দূষিত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের বায়ু পরিবেশবান্ধব নয় এটি বিশ্ব জরিপে উঠে আসছে প্রতিনিয়ত। বিশ্ব জরিপে পুনরায় বসবাসের অযোগ্য হয়েছে আমাদের প্রিয় রাজধানী ঢাকা! জলবায়ু পরিবর্তন ও বনভূমি হ্রাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। তবুও জনসাধারণ এবং রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের হুশ হচ্ছে না।

নদী এখন জীবন্ত সত্ত্বা হিসেবে ঘোষণা করেছে মহামান্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। আশার কথা হচ্ছে, নদী দখল আর ভরাটের মহোৎসবের মধ্যেই ঢাকার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর প্রথম ধাপের উচ্ছেদ কার্যক্রমের পর সম্প্রতি নৌ বাহিনী কর্ণফুলী নদীর লালিয়ার চর দখলদারদের উচ্ছেদ করেছে। আমরা প্রত্যাশা করছি কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অচিরেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করবে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি দেশের প্রকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকেও অবৈধ দখল মুক্ত করার কাজ শুরু করবে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মা মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলে অতি সত্বর কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে অন্যথায় দেশে মিঠা পানির মাছের প্রচণ্ড অভাব দেবে। দেশের মাছের চাহিদার ঘাটতি দেখা দেবে।

এ বছর গত ২০ জুন’১৯ পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পাশাপাশি জাতীয় বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯। এ উপলক্ষে ওইদিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ বছরের বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার শ্লোগান – “শিক্ষায় বন প্রতিবেশ, আধুনিক বাংলাদেশ”। বন অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা শেরে বাংলা নগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা মাঠে শুরু হয়েছে। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হলেও ঈদুল ফিতরের কারণে এবার তা শুরু হয়েছে ২০ জুন’১৯ তারিখে। এ বছরের পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে - “ ‘এয়ার পলিউশন’ বা ‘বায়ু দূষণ’ এবং দিবসের শ্লোগান ‘বিট এয়ার পলিউশন’ অর্থাৎ ‘আসুন বায়ুদূষণ রোধ করি’ ”। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০১৯ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন “উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে, যে কোনো প্রকল্পের সঙ্গে বৃক্ষ রোপণ করতেই হবে এবং জালাধার সৃষ্টি এবং জালাধার সংরক্ষণ করতে হবে”। তিনি দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থল ও বাসস্থানে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সন্তানদেরও এই পরিবেশবাদী কাজ শেখানোর পরামর্শ দেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ বলেছেন, উন্নয়নকে টেকসই করতে সকল পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষি শিল্পসহ সকলক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো বিকল্প নেই। তবে উন্নয়নকে টেকসই করতে সকল পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি”। শেখ হাসিনা বলেন, “খাল খালের মতই থাকবে। সেখানে নৌ চলাচলও করতে পারে তাতে আমাদের পরিবেশ রক্ষা পাবে, বায়ুদূষণ কমবে এবং সেখানকার বাতাসটাও আরামদায়ক হবে। কিন্তু যেখানে কোনো গাছ থাকে না সেখানে সেই পরিবেশটাও থাকে না। সেই বিষয় আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে”। তিনি বলেন, সভ্যতা এবং তার ক্রমবিকাশ অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। কিন্তু সাথে সাথেই আমাদের সর্বক্ষেত্রে এই বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আমাদের পরিবেশটাও রক্ষা করতে হবে। এ বছর পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে অবদানের স্বিকৃতি স্বরূপ ৩টি ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ৫টি ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০১৯’ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অবদানের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু এ্যাওয়ার্ড ফর ওয়ার্ল্ড লাইভ কনজারভেশন’, বৃক্ষরোপণে ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরষ্কার’ এবং সামাজিক বনায়নে সুবিধাভোগীদের হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের বৃক্ষমেলায় সারাদেশে বিক্রি ও বিতরণের জন্য ৬৯ লাখ ৪৫ হাজার চারা উত্তোলন করা হয়েছে যার মধ্যে ১০ লাখ চারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনগণের কাছে বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামে ২৮ জুলাই’১৯ পর্যন্ত ১৬ দিনে বনজ, ফলদ, ঔষধি বা ভেষজ, বনসাই, শোভাবর্ধনকারী ও অন্যান্য প্রজাতির সোয়া ৩ লাখ চারা বিক্রি হয়েছে, যার মূল্য হচ্ছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২৯ জুলাই’১৯ মেলার শেষদিনে প্রচুর ক্রেতা সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বিভিন্ন নার্সারি অগ্রিম বুকিং পেয়েছেন বলে জানান। বর্তমানে বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভুমির পরিমাণ ১৮ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর। জানা যায়, “সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বন থেকে গাছ আহরণ ২০২২ সাল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে”।

জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে কাঠের চাহিদা। আর কাঠের একমাত্র যোগান দিচ্ছে গাছ। জনসংখ্যার চাহিদার পাশাপাশি শিল্পায়ন, নগরায়ন ও উন্নয়নের জন্য গাছ কাটা পড়ছে মাত্রাধিক। সমস্যাটা হচ্ছে, আমরা গাছ কাটি কিন্তু এর পরিবর্তে কোন গাছ লাগাই না। ব্যক্তি ও সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পরিবার দেশ ও জাতি বড়ই উদাসীন। একথা অনস্বীকার্য যে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরাট হুমকির মাধ্যে আছে বাংলাদেশ। ফলে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশকে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বেশি করে গাছ লাগানো ও বনভূমি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি অসচেতনতা ও গাছের প্রতি দরদ আর ভালোবাসার অভাবে দেশে গাছের সংখ্যা ব্যাপকহারে কমছে। বৃক্ষ রোপণ অভিযান অনেক আগেই শুরু হলেও যথাযথ যত্ন আর তদারকির অভাবে রোপিত চারা গাছ হিসেবে বড় হতে পারছে না। দুঃখজনকভাবে যত্ন আর তদারকির অভাবে চারা বড় গাছ হওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে, গরু ছাগলের পেটে যাচ্ছে। ঝড় বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের নিজেদের স্বার্থে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছকে বাঁচাতে হবে। গাছের যত্ন নিতে হবে যাতে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে গাছ বেড়ে ওঠতে পারে। স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকেও বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি দেশের সকল স্তরের জনগণকে সজাগ ও সচেতন করা অতীব জরুরি হয়ে উঠেছে। গাছ মানুষের বন্ধু এবং মানুষ ও গাছ একে অপরের পরিপূরক। স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আসুন গাছকে ভালোবাসি। পাশাপাশি শুধু বৃক্ষ রোপণ নয়, বৃক্ষের পরিচর্যা ও বড় করার দায়িত্বে সজাগ, সতর্ক, দায়িত্ববান এবং যত্নবান হই। প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা করতে না পারলে মানবিক বিপর্যয় রোধ করা মোটেও সম্ভব নয়।


  • পড়া হয়েছেঃ ৫৯ বার
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৩১ জুলাই ২০১৯

সর্বশেষ প্রকাশিত