গৃহ কর্মীদের নির্যাতন নয়, সদয় হোন এবং মানবিক আচরণ করুন

গৃহ কর্মীদের নির্যাতন নয়,  সদয় হোন এবং মানবিক আচরণ করুন

মোহাম্মদ মন্‌জুরুল আলম চৌধুরী

শুক্রবার, ০৯ আগস্ট ২০১৯


নারী

আমাদের দেশে গৃহকর্মী, গৃহভৃত্য বা কাজের লোকের প্রতি অমানবিক, নিষ্ঠুর, নির্দয়, হৃদয়বিদারক, মর্মস্পর্শী, মর্মন্তুদ আচরণ এবং নির্যাতন নতুন কোন ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন বেশীরভাগ ঘরে গৃহকর্মীরা নব্য দাস প্রথার শিকার হয়ে করুণভাবে দিন যাপন করছে। পৃথিবীতে এখন কোন দেশেই দাস প্রথার প্রচলন না থাকলেও অলিখিত বা অবৈধভাবে দাসপ্রথা চলে আসছে। এমন কি মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরবেও মহিলা গৃহকর্মীদের ওপর অবিচার, নির্যাতন, জুলুম, যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাদেরকে পর্যাপ্ত খাবার এবং ওয়াদা মাফিক পারিশ্রমিক না দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এক তথ্য থেকে জানা যায়, “দাসত্ব বলতে বোঝায় কোনো মানুষকে জোর করে শ্রম দিতে বাধ্য করা এবং এক্ষেত্রে কোনো মানুষকে অন্য মানুষের অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা। কাউকে তার ইচ্ছার পরিবর্তে দাস করা যেতে পারে। এটি হতে পারে তার আটক, জন্ম, ক্রয় করা সময় থেকে। দাসদের অনুমতি ব্যতিরেকে স্থান বা মালিককে ত্যাগ করা, কাজ না করার, বা শ্রমের মজুরী পাবার অধিকার নেই। কিছু সমাজে নিজের দাসকে হত্যা করা আইনসঙ্গত ছিল। দাসত্ববিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যান্টি স্ল্যাভারি ইন্টারন্যাশনাল দাসত্বের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে একে ‘জোরপূর্বক শ্রম দেওয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে এখনো ২ কোটি ৭০ লক্ষ দাস রয়েছে। এই সংখ্যা ইতিহাসের যে-কোনো সময়কার দাসের সংখ্যার তুলনায় বেশি। এমন কী প্রায় ৪০০ বছরের ইতিহাসে আফ্রিকা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনা আফ্রিকান দাসের মোট সংখ্যাও এর প্রায় অর্ধেক। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব অনুযায়ী এখনো বিশ্বের ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ জোরপূর্বক শ্রম, দাসত্ব, ও দাসত্ব সংশ্লিষ্ট প্রথার কাছে বন্দী”( সূত্রঃ ইত্তেফাক, ২২ আগষ্ট’১৫)। আক্ষরিক অর্থে দাস প্রথার বিলুপ্ত হয়নি বা ঘটেনি কালের প্রেক্ষিতে তার রুপান্তার হয়েছে মাত্র। আগে ছিল দাস এখন হয়েছে গৃহকর্মী, গৃহভৃত্য বা কাজের লোক। আমাদের প্রত্যকের ঘরে ঘরে দাস হিসেবে রয়েছে কাজের লোক বা গৃহকর্মী। এরা সবার আগে ঘুম থেকে উঠে সারাদিনের খাটা খাটুনির পর সবার পরে ঘুমাতে যায়। লেবার ল অনুযায়ী এদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই। নেই বেতন ভাতা বা অন্যান্য ন্যায্য সুযোগ সুবিধার কোনো কাঠামো। পর্যাপ্ত খাওয়া দাওয়া, অবসর, ঘুমানোর, চিকিৎসা-সেবা এবং বিনোদনের সুনির্দিষ্ট কোনো সুযোগ সুবিধা বা ব্যবস্থাও নেই। এমন কি খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় বলতে কোনো কিছুই নেই। ঘরের সবার খাওয়া দাওয়া শেষ হওয়ার আগে তাদের খাওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। আমরা পেটপুরে ভালটা খাই আর তাদের জন্য উচ্ছিষ্ট বা নিম্নমানের অবশিষ্ট খাবারটা রেখে দেই। খাবার পর্যাপ্ত না থাকার ফলে অনেক সময় ওদের পেট ভালমতো ভরেও না। তাতে কারো খুব একটা অপরাধবোধ কাজ করে বলে মনে হয়না। তাদের খাবার দাবার, আরাম আয়েশ, বিনোদন, চিকিৎসা সুযোগ সুবিধা নিয়ে আমাদের কারো কোনো মাথাব্যাথা নেই। আমরা তথাকথিত শিক্ষিত, ধনীরা ওদের ছাড়া অচল তাই আমরা কেউ তার প্রতিবাদ করিনা আমরা সবাই যে এর বেনিফিসিয়ারি। ওদের দারিদ্রতা, অসহায়ত্বকে পুঁজি করে আমরা যে জোর করে অবৈধ ও নির্দয়ভাবে দাস প্রথা চালু রেখেছি তা অস্বীকার করি কিভাবে ? আজকাল মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে। অনেক গৃহিণী চাকুরীজীবী আবার অনেকে বাচ্চাদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর কোচিং সেন্টারে দৌড়াতে হয়। আর সবার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভবপরও নয়। তাই প্রতিটি পরিবারে কাজের লোক, গৃহভৃত্য বা গৃহ কর্মীর প্রয়োজনীয়তাটাও অনস্বীকার্য।

কাজের লোক বা গৃহ কর্মীদের আমরা খুব একটা আপন হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। আমাদের আভিজাত্য, অহংকার, আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবস্থান অনেক কিছু নিয়ে আমরা বিভিন্ন মানসিক জটিলতা এবং কুসংস্কারে ভুগে থাকি। আমাদের মন মানসিকতা হচ্ছে ওরা তো কাজের লোক, গরীব অসহায় তাদের সাথে আমাদের এতো দহরম মহরম কিসের। কিসের এতো সখ্যতা!ওরা নিচের তলার মানুষ ওদেরকে বেশী উপরে তুলতে নেই, তাহলে মাথায় চড়ে বসবে। ঘরে ওরা স্যান্ডেল জুতা পড়তে পারবে না তাতে আমাদের মর্যাদাহানি হয়। ওরা আমাদের বিছানায়, সোফায়, চেয়ারে বসলে মালিক মুনিব সম্পর্কটাই তো টালমাটাল হয়ে যাবে। তাঁদের ভালো জামা কাপড় পড়তে নেই। তাঁরা আমাদের মতো একই খাবারও বা ক্যামনে খাবে। ঘরে টাকা পয়সা সোনা চাঁদি মোবাইল ঘড়ি কিছু হারানো গেলেই প্রথম চোটটি তাদের ওপর দিয়েই বয়ে যায়। ওরা যেহেতু অভাবী মানুষ, অভাবে তো স্বভাব নষ্ট হয়। তাই নয় কি? আরও কতো কি ? পরে সেই জিনিষ খুঁজে পাওয়া যায় ঘরেই অথবা মুনিবের ছেলে বা মেয়েদের কাছে। কিছু ভেঙ্গে চুরে ফেললো আর যায় কোথায় কিল লাথি ঘুষি থাপ্পড় লাটিপেটা না হলে কি চলে। আপনার সন্তান যদি চুরিটা করে বা কিছু ভেঙ্গেচুরে তাহলে কিন্তু সাত খুন মাফ। ওরে বাবা, ওরে মা এমন করতে নেই। অমন আর করো না। তুমি নিয়েছ বা তুমি ভেঙ্গেছ আগে বলবে না। ভাত তরকারী বা অন্য কোন রান্নাবান্না পুড়ে ছাই হয়ে গেলে সারা বাড়ি মাথায় উঠে যায় গৃহিণীর কিন্তু নিজে করলে আহা ক্যামনে এমন ভুল হয়ে গেল বলে চুপসে যান তিনি!এসব নির্যাতনের কথা বলে শেষ করার মতো নয়। নারী শিশু কিশোরীদের মুনিবের, তাঁর সন্তানদের বা তাঁদের স্বজনদের দ্বারা সংঘটিত যৌন হয়রানি, নির্যাতন, ধর্ষণের কয়টি ঘটানাই বা প্রকাশ পায়। তাদেরকে যে যেভাবে পারছে সে ভাবে শাসন, শোষণ করছে। করছে ভোগ, অত্যাচার, নিপীড়ন আর নির্যাতন। শারীরিকভাবে আঘাত করছে বা প্রহার করছে। এমন কি তাদের ওপর নানান ধরনের মানসিক আঘাতও কম নয়। অনেককেই চোখ বুঝে সহ্য করতে হচ্ছে সমাজের এসব অনাচার আর অবিচার। সয়ে যেতে হচ্ছে সব ধরণের জুলুম নির্যাতন অত্যাচার। যৌন নিপীড়ন, দৈহিক, শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার। এই নির্যাতন আর অবিচার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তাদের সামনে কোন পথ বা সুযোগ খোলা নেই। কেননা তাদের বেশিরভাগ মানুষ নদী ভাঙ্গনের ফলে বাস্তুচ্যুত। আবার কেউ বা পিতৃমাতৃহীন অনাথ সহায় সম্বলহীন। ফলশ্রুতিতে নেই ওদের কোথাও যাওয়ার বা আশ্রয়ের জায়গা। কোথাও কেউ তাদের প্রতি মায়া-মমতা সহানুভূতি সহমর্মিতা আন্তরিকতা মানবিকতা নিয়ে দাঁড়িয়ে নেই। আমরা জানিনা কত শিশু কিশোরী অকালে অন্তস্তত্বা হয়ে পড়ছে। অন্তস্তত্বা হয়ে পড়ছে যৌন লালসার শিকার হয়ে কত নারী গৃহকর্মী। আমরা জানিনা তাদের অবৈধ সন্তানদের অবৈধ গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে কত জন শিশু, কিশোরী, নারী অকালে মৃত্যুবরণ করছে। লেখাটা শেষ করার মুহূর্তে একটি হৃদয়বিদারক, মর্মন্তুদ, বর্বর, নিষ্ঠুর, পৈশাচিক ঘটনা চোখে পড়েছে যা মানব হৃদয়কে স্পর্শ না করে পারে না। গত ৬ আগষ্ট’১৯ নগরীর লালখান বাজার এলাকায় আট বছরের ইয়াছমিন আক্তার নামের এক গৃহ কর্মীর শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্ত্রীকে আটক করেছে খুলশী থানা পুলিশ। গরম পানিতে শরীর দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ইয়াছমিনের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন আছে বলে জানায় পুলিশ। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও গৃহ কর্মী বা কাজের লোকরা নারকীয় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তার অনেক খবর জনসম্মুখে প্রকাশিত হচ্ছে অনেক ঘটনা আবার অপ্রকাশিত থেকেই যাচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু ঘটনা বর্ণনা করা গেল নির্যাতনের ভয়াবহতা এবং নিষ্টুরতা বুঝানোর জন্য। “গত ২৮ জুলাই’১৯ হামজারবাগের মোমিনবাগ আ/ এলাকার ১ নম্বর রোডের আট বছরের শিশু গৃহকর্মী রিয়াদ নির্যাতন সইতে না পেরে ছয়তলার গ্রীল কেটে আটতলায় উঠে যায়। পরে ভবনের দারোয়ান এবং স্থানীয়রা মিলে রিয়াদকে উদ্ধার করে। গৃহকর্ত্রী মহিলা আইনজীবী অ্যাডভোকেট শ্যামলী প্রায়শ রিয়াদকে নির্যাতন করতো বলে জানা যায়। শিশুটির শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন আছে বলে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ জানায় তবে গর্ভাবস্থায় থাকায় এই মহিলা আইনজীবীকে দুইজন আইনজীবীর জিম্মায় জামিন দেয়া হয়। গত ২২ জুলাই’১৯ নগরীতে ১৫ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে আবুল কালাম নামে বেসরকারি সংস্থার এক কর্মকর্তাকে আটক করে চান্দগাও থানা পুলিশ। ওই গৃহকর্মীকে বাসায় তাল দিয়ে আটকে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত খাবার না দেওয়া ও বিভিন্ন সময় যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ২৯ জুন’১৯ ডবলমুরিং থানাধীন নিরিবিলি আবাসিক এলাকা থেকে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযগে নাসিমা আক্তার জেসি (৩২) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে আটক করে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। থানার ওসির বরাতে জানা যায়, পান থেকে চুন খসলেই মাহির ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। হাতের কাছে যখন যা পাওয়া যায়, তাই দিয়ে মাহিকে মারধর করতেন নাসিমা। প্রতিবেশীরা তা জানতেন এবং মাহির চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে হেল্পলাইন ৯৯৯-এ ফোন করলে থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে ওই গৃহকর্ত্রীকে আটক করে”{সূত্রঃ আজাদী, ৩১ জুলাই’১৯}। জানা যায়, “গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা-২০১৫” বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটেই চলেছে। পাশাপাশি আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, “২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে বিভিন্নভাবে ২৮৬ জন গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন। তাদের মধ্যে ১৮৩ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ২৮৬টি ঘটনার মধ্যে থানায় মামলা হয় মাত্র ১২২টি। শারীরিক নির্যাতনে ৩২ জন এবং অজ্ঞাত কারণে ১১৭ জন সহ মোট ১৪৯ জন গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়”। খুব দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, দেশে প্রায় ২০ লাখ গৃহকর্মী রয়েছে যার ৮০ ভাগই মেয়ে শিশু।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ভুক্তভোগীরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতা, ভয়ভীতি, অন্যায় বা অনৈতিক চাপ, মানসিক ও সামাজিক অহেতুক বিড়ম্বনা, যন্ত্রণা, লোক লজ্জার ভয়, বাহুবল অর্থ বিত্ত্ব সামাজিক প্রশাসনিক রাজনৈতিক কারণে মামলা করতে ভয় পায়। মামলা না করার জন্য অর্থের প্রলোভন, ভয় ভিতি প্রদান করে তথাকথিত সমঝোতা করতে বাধ্য করা হয় গরীব দুঃখী অসহায় মানুষদেরকে। কিছু টাকা দিয়ে নির্যাতন এমন কি সতীত্বহরণের রফাদফা করতেও পিছপা হয়না এসব নরপশু জানোয়ারের দল। আর যারা সাহস করে মামলা করতে যায় তাদেরকে প্রতি পদে পদে নানান রকম উৎপীড়ন, বিড়ম্বনা, যন্ত্রণা, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। আদালতে তাদের চরিত্র হরণ করেন বিজ্ঞ আইনজীবীরা নানান ধরনের অশ্লীল, অশোভনীয়, অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত কথাবার্তা এবং চরিত্র হননের মাধ্যমে। তাদেরকে চোর বানানো হয় এমনকি রাস্তার বেশ্যা বানানোর মতো হীন অপপ্রয়াস চালানো হয়ে থাকে। সমাজে এরা মাথা উচু করে চলতে পারেনা বরং দোষীরা অন্যায় অবিচার করেও মাথা উচু করে চলে। তাঁদের অর্থ বিত্ত্ব সামাজিক রাজনৈতিক পরিচয়, আশ্রয় প্রশ্রয়, প্রশাসনের কতিপয় অসাধু মানুষের সহযোগিতায় তাঁদের চরিত্রে কালিমা পড়ে না মোটেও। বরং ওরা ফুলের মালা গলায় দিয়ে রাজপথ দাফিয়ে চলে। আমাদের আইজীবিরা আদালতে একজন নারী সম্পর্কে যে ধরনের কটূক্তি, অশ্লীল, অশোভনীয় কথাবার্তা বলে থাকেন এ ব্যাপারে অবশ্যই তাঁদের কথাবার্তায় মা জাতির প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান ভালবাসা স্নেহ সহানুভূতি সহমর্মিতার প্রকাশ ঘটানো উচিৎ। পাশাপাশি ভদ্র, মার্জিত, শোভনীয় আচরণ এবং আইনের ভাষায় যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে প্রমাণে সচেষ্ট হওয়া উচিৎ। অবশ্যই মা বোনের চরিত্র হননের মাধ্যমে নয়। আমাদের দেশের প্রশাসনের উচিৎ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলার তদন্ত রিপোর্ট আদলতে উপস্থাপন করা। নীতি, নৈতিকতা এবং মানবতা বিবর্জিত হয়ে অসাধু পথে বিত্ত্ব বৈভব অর্জনের জন্য অসহায় দুঃখী মানুষের প্রতি অমানবিক হওয়া মোটেও বাঞ্চনীয় নয়। দেশে আইনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং আইনের শাসন কায়েমের জন্য একজন ভুক্তভোগী বিচার প্রার্থী সকল ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ এবং সুবিধা ভোগ করার অধিকার রাখে। কিন্তু গরীব অসহায় দুঃখী মানুষ অর্থের অভাবে, আইনি সহযোগিতার অভাবে, প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার বিমাতাসুল্ভ আচরণের কারণে আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আর আস্থা হারিয়ে ফেলছে গরীব অসহায় দুঃখী মানুষেরা। আমাদের দেশে গৃহ কর্মী ছাড়া মানুষের ঘর গৃহস্থালির কথা চিন্তা করা যায় না। আমরা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। আমাদের বেশীর ভাগই লেখাপড়া জানা শিক্ষিত এবং অভিজাত বলে নিজেদেরকে দাবী করি। অথচ আমরা গৃহ কর্মী বা কাজের লোকদের মানুষ হিসেবে না দেখে দেখি সামান্তবাদী প্রভুর মতো দাস হিসেবে। নিজেদেরকে মুনিব বা মালিক ভাবি। মনে করি ওরা প্রজা ওরা থাকবে আমাদের পদতলে। ওরা যেন মানুষ নয় অন্য গ্রহ থেকে আসা গৃহকর্মী, গৃহভৃত্য, কাজের লোক এক কথায় দাস। আমরা একবারের জন্য ভাবি না ওরা যদি না থাকতো আমাদের অবস্থা, ঘরের পরিবেশ কি ভয়াবহ এবং জঘন্য হয়ে যেতো। গৃহ কর্মী, গৃহভৃত্য বা কাজের লোক তথা দাস আমাদের সমাজের গরীব অসহায় দুঃখী মানুষ। অভাবের তাড়নায় আজ ওরা আপনার ঘরে কাজ করতে এসেছে। দু’মুটো ভালমন্দ খেতে এসেছে। আপনার সন্তানদের সাথে, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে আপনারা যেভাবে ব্যবহার করেন, যেভাবে খাবার দেন সেভাবে এদের সাথেও মায়া-মমতা আর ভালবাসা দিয়ে সুন্দর আচরণ করুণ। মশার কামর থেকে আপনার সন্তানকে যেভাবে বাঁচিয়ে রাখেন সেভাবে ওদেরকেও বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করুণ। নিজেকে মানুষের কাতারে এনে আপনার পরিবারের সদস্যদেরকে মানবতা নৈতিকতা এবং ধর্মীয় অনুশাসন ও রীতিনিতি শিক্ষা দিন। নিজেক অমানুষের কাতারে দাঁড় করাবেন না। গৃহ কর্মী বা কাজের লোকদের সঙ্গে সুন্দর ভালো মানবিক আচরণ করুণ। আমাদের রক্তের রং আর ওদের রক্তের রঙ্গের মধ্যে কোন তফাৎ নেই। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করা মোটেও সমীচীন নয় মানবিক, নৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় কোনভাবেই। তাঁদেরকে নির্যাতন করার আগে একবার তার জায়গায় আপনার আপন সন্তানের মুখটা বিবেচনায় নিন। মারধর, শারীরিক প্রহার, নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন আর যৌন সহিংসতা থেকে ওদের বাঁচান। মানুষের সাথে সুন্দর মানবিক আচরণের কোন বিকল্প নেই যদি না আপনি নিজে মানুষ হয়ে থাকেন। নিজেদের হিংস্রতা, রাগ, ক্ষোভ ও পশুত্ব বিসর্জন দিন। আপনাদের পশুসুলভ আচরণে শুধু সত্যিকারের মানুষ নয় জানোয়ারের হৃদয়ও কেঁপে উঠে। মানুষ তুমি মানুষ হও। মানুষ তুমি মানবিক হও।


  • পড়া হয়েছেঃ ৪৮ বার
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ০৯ আগস্ট ২০১৯

সর্বশেষ প্রকাশিত