শৈশবের গরুর হাট ও অন্যান্য কথা

শৈশবের গরুর হাট ও অন্যান্য কথা

নাসরিন সিমি

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯


শৈশবে গরুর হাট

আমাদের বাড়িটা স্কুলের সীমানা ঘেঁসে একদম। বাড়ির সামনে বড় রাস্তাটা চলে গেছে পাশের নদীর পাড় ধরে। প্রতিবছর স্কুলের মাঠে জমজমাট হাট বসতো গরু ছাগলের।

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসা যাওয়া করতো হাটে। এই হাটে দূর দূরান্ত থেকে গরু নিয়ে আসতো পাইকাররা। তাদের থাকার বন্দোবস্ত হতো মাঠের পাশে আমাদের বাড়িটার সামনের দিকে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে।

কিছু কিছু ভাতের হোটেল বসতো অস্থায়ীভাবে। সেখানে লাল লাল ঝোলের তরকারি রান্না হতো। ঝোলের মধ্যে ডুবে থাকতো বিভিন্ন রকম মাছ ও সবজি। আমি ছোট বেলায় অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম ভাবতাম আমাদের বাড়িতে এইরকম লাল লাল ঝোলের তরকারি রান্না হয়না কেন? শুধু আমাদের কেন আত্মীয় স্বজনেরাও কেউ এই রকম লাল লাল ঝোলের তরকারি রান্না করতে পারেনা। আমার তখন ধারণা হয় এই রকম হোটেলের রাঁধুনিরাই শুধু এই যাদু জানে। এবং আমি বড় হয়ে সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে এই রকম লাল লাল ঝোলের তরকারি দিয়ে একদিন হাপুস হুপুস করে অনেক গুলো ভাত খেয়ে ফেলবো।

আরেকটা বিস্ময়কর কাণ্ড ঘটতো চা সিঙ্গারার দোকানে সেই সময় জিলিপি ভাঁজা হতো। শুধু জিলিপি নয় সাথে আরো দুই তিন রকম নিমকি গোলগোল্লা মুড়ালি ভাজতো আমাদের চিরচেনা আজিজুল হক চাচা। তাকে সবাই সি ও ডাকতো। কিন্তু কেন ডাকতো আজও জানি না। আমাদের বাড়ি থেকে লাল লাল ঝোলের তরকারি খেতে না দিলেও জিলিপি মুড়ালি নিমকি এসব কিনে দিতো। আমরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে নিমকি মুড়ালি খেতে খেতে গরু দেখতাম গরু গুনতাম।

আমাদের বাড়ির গরু কেনা হতো ঈদের দুই/ এক দিন আগে। একবার আমাদের গরু ঈদের দিন সকাল বেলা হারিয়ে গেল। আব্বার মুখ কালো আম্মার হায় হায় চিল্লাচিল্লি তে সকাল বেলার পরিস্থিতি মোটামুটি অসহনীয়। আব্বা আবার হাঁটে যাওয়ার জন্য তৈরি এমন সময় আমাদের আশেপাশের বাড়ির লোকজন গরু ধরে নিয়ে আসলো। গরু পাওয়া গেছে। গরু পাওয়া গেছে। আম্মা আবার চিল্লায়। আব্বা হাসিমুখে টেলিফোনে আলম চাচা বা তার কোন বন্ধুকে জানায়। আব্বা আজ নেই। আমিও আর সেই গরুর হাট দেখতে পাই না।

কতোদিন বা কতো বছর ধরে গরুর হাট দেখিনা। গরুর হাঁটে যাওয়ার মতো মানসিকতাও নেই আর। আমাদের হারিয়ে যাওয়া কোরবানির গরু ফিরে আসে কিছু শৈশবের গরুর হাট আর ফিরে আসেনা।


  • পড়া হয়েছেঃ ৪৫ বার
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯

সর্বশেষ প্রকাশিত